
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ছবি: সংগৃহিত
দুই পথশিশুকে পোষাক উপহার দিয়ে প্রসংসায় ভাসছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী ইউএনও মো: কামরুল হাসান মারুফ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে উপজেলা প্রশাসন কিশোরগঞ্জ সদরের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই মানবিক ঘটনার কথা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পেজ স্ট্যাটাসে তিনি জানান, সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে ৯-১০ বছর বয়সী একটি শিশু তার চোখে পড়ে। পড়নে পুরোনো ও ছেঁড়া জামা। শিশুটি শক্ত করে ধরে রেখেছিল তার চেয়েও ছোট ভাইয়ের হাত। কাছে গিয়ে কথা বললে শিশুটির নাম সাব্বির বলে জানা যায়। পরে জানা যায়, দুই ভাই একটি হোটেলে খাবার সংগ্রহের জন্য সেখানে গিয়েছিল।
সাব্বির যশোদল ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের অভাবও তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। পরিবারের ১৮-১৯ বছর বয়সী বড় ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনোভাবে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন।
শিশুটির ছেঁড়া জামার দিকে নজর যায় ইউএনওর। তিনি সাব্বিরকে নতুন পোশাক দেওয়ার কথা বলেন। প্রথমে শিশুটি নীরবে সম্মতি জানালেও পরে নিজের পছন্দমতো জামা-প্যান্ট বেছে নেয়। তার জন্য কিনে দেওয়া হয় নতুন পোশাক।
নতুন জামা-প্যান্ট হাতে পেয়ে মুহূর্তেই বদলে যায় সাব্বিরের মুখ। কিছুক্ষণ আগেও যে মুখে ছিল অভাবের ছাপ, সেখানে ফুটে ওঠে নির্মল আনন্দের হাসি। নতুন পোশাক পরে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে সেই হাসি যেন ছুঁয়ে যায় আশপাশের পরিবেশকেও।
ইউএনও মো. কামরুল হাসান মারুফ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, নতুন পোশাকটি যেন শিশুটির ছোট্ট পৃথিবীতে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিয়েছে। ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে সাব্বিরের হাসির সেই মুহূর্তকে কোনো অর্থ দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও লেখেন, হয়তো তিনি দুই শিশুকে শুধু নতুন জামা দিয়েছেন; কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছেন এমন দুটি নিষ্পাপ হাসি, যার কোনো মূল্য হয় না। তাই আমাদের সমাজে শুধু সাব্বিরই নয়, তার মতো হাজারো পথশিশু রয়েছে। তাদের মুখে একটুখানি হাসি ফুটাতে সকল বৃত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

এই ওয়েবসাইট থেকে লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ