
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ | শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ছবি: কিশোরগঞ্জ পোস্ট ২৪
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার টানা ভারীবর্ষনে কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ,শিক্ষককক্ষ ও বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে থাকে বর্জ্য ও দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি। সামান্য বৃষ্টিতেই সেই পানি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান,বন্ধ রয়েছে খেলাধুলা এবং দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ চললেও নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ, শ্রেণীকক্ষের আশপাশ ও বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তারা দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানিনিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। আর এতে টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেক এলাকায় বৃষ্টির বিরতি পেলেই পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং পোশাকশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও প্রভাব পড়েছে।
অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার কারণে সকালেই বের হতে হয়েছে। কিন্তু রাস্তাজুড়ে পানি থাকায় সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে কেন্দ্রে পৌঁছেছি। প্রতিটি মোড়ে যানজট ছিল, চলাচলও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন জানায়, প্রতিদিন নোংরা পানি মাড়িয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। মাঠ ডুবে থাকায় খেলাধুলাও পুরোপুরি বন্ধ।
পরীক্ষার্থীরা জানান,পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপের পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের মানসিকভাবে আরও চাপে ফেলেছে। ভেজা অবস্থায় কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ জানান, বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার কারণে শ্রেণীকক্ষ,শিক্ষক কক্ষ ও বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে যায়, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে।দীর্ঘদিন ধরে এই জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।’ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন,কটিয়াদী উপজেলা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই। তবু দ্রুত কাজ শুরু করে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এই ওয়েবসাইট থেকে লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ