
ইমরান হোসেন | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া-নোয়াগাঁও অলওয়েদার সড়কটি মেঘনা নদীর ভাঙনে এখন বিলীনের পথে। দিন দিন ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে হাওরবাসী। প্রায় সাত বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক হাওরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। কিন্তু এখন মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে অলওয়েদার এই সড়কটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনের তীব্রতায় ইতিমধ্যে সড়কের বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অন্তত এক কিলোমিটার এলাকা। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি ও একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। এ সময় তিনি ভাঙন রোধে চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, “নদীভাঙনে আগে জমি গেছে, পরে বিদ্যুতের খুঁটিও বিলীন হয়েছে। কয়েকদিন বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পরে নতুন করে খুঁটি বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন বলেন, “জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার পথও এখন ঝুঁকির মধ্যে। যেকোনো সময় যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের লক্ষণ দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এদিকে সড়কের শেষ প্রান্তে মেঘনা নদীর ওপর প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এক হাজার মিটার দীর্ঘ বাঙালপাড়া-চাতলপাড় সেতু। স্থানীয়দের আশা ছিল, সেতুটি চালু হলে নোয়াগাঁওয়ের সঙ্গে অষ্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। কিন্তু সড়ক ভেঙে পড়ায় পুরো পরিকল্পনাই এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কিশোরগঞ্জ এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অলওয়েদার সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি আরও ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ চলাকালীন সময়েই নদীভাঙন শুরু হওয়ায় পুরো প্রকল্পটি নতুন করে হুমকির মুখে পড়ে।
এলজিইডির অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “সড়কের পাশেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “এলজিইডির পক্ষ থেকে ৭মে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়। আগে অবহিত করা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। বর্তমানে নদীর গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় কাজ কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। তারপরও জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

এই ওয়েবসাইট থেকে লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ