শনিবার ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনার এলাকার খবর
Advertise with us

নড়বড়ে ঘরে রবি মিয়ার দুঃখের জীবন, অর্থের অভাবে আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নড়বড়ে ঘরে রবি মিয়ার দুঃখের জীবন, অর্থের অভাবে আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে

ছবি: কিশোরগঞ্জ পোস্ট ২৪

কখনো টিনের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, আবার কখনো সূর্যের আলো ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরে। বৃষ্টি হলেই ভিজে যায় জামাকাপড়, বইপত্র ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র।ঝড়-তুফান এলে আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা—এই বুঝি উড়ে গেল টিনের চালা। এমনই একটি নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হতদরিদ্র রবি মিয়া।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রবি মিয়ার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। দুঃখ-কষ্ট আর অভাব যেন তাদের নিত্যসঙ্গী।ছোট্ট একটি ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় বাবা-মা ও সন্তানদের। খাবারের কষ্টও লেগেই আছে—কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো উপোস থাকতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না রবি মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। ফলে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। পরিবারে রয়েছেন অসুস্থ বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় দুই মেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট ছেলে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। সংসারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বোন টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি বসতভিটায় তিনটি টিনের ঘর।দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। একটি ঘরে থাকেন রবি মিয়ার বৃদ্ধ মা, অপর দুটি ঘরে পরিবারের অন্য সদস্যরা বসবাস করেন। ঘরের বিভিন্ন স্থানে টিন ফুটো হয়ে যাওয়ায় কাগজ, কাপড় ও পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। বইপত্র রক্ষার জন্য সেগুলোও পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চেহারায় অভাব-অনটনের স্পষ্ট ছাপ। অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।ঘরের ভেতরে বৃষ্টিতে ভেজা বই দেখছেন রবি মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে।ঝড়-বৃষ্টি এলেই টিনের চালা উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়, কষ্ট আর তীব্র অভাব যেন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের এই দুর্দশা স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।

রবি মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সানজিদা আক্তার তামান্না বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ভিজে যায় বইপত্র, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নিজের কলেজের খরচের পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও বহন করতে হয়। সামান্য টিউশনি করে সবকিছু সামলানো খুবই কঠিন।’

রবি মিয়া বলেন, ‘বয়স হয়ে গেছে, শরীরে আর শক্তি পাই না। নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারি না। টাকার অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না। ঘরগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা কোনো আবদার করলে তা পূরণ করতে পারি না। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। সংসার কিভাবে চলবে, আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এ চিন্তায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘রবি মিয়ার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১
১৩৪১৫১৬১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৯৩০৩১ 

ফলো করুন Kishoreganj Post 24-এর খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি
মো. জাভেদ ইকবাল
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো. ইমরান হোসেন
ঠিকানা

এই ওয়েবসাইট থেকে লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ